October 14, 2026, 11:28 am
যমুনা নিউজ বিডি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। দেশের সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।Maps
ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র কিন্তু অদম্য সাহসী ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা পুরো জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছিল।
বিশেষভাবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শহীদ শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের সেই দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয়কে জয় করার প্রতীক।
তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন ছিল না। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।
তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরেই দেশ এখন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করা সম্ভব।Maps
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন শহীদ হন। রংপুরে আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে সেই ক্ষোভ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে।